আপনি আসলে খুজছেনটা কী?সেটার উপরই দৃষ্টিপাত করুন আর পূর্ণতার সহিত লেগে থাকুন।

প্রকৃতঅর্থে আমরা আমাদের সকল কাজকর্ম,চিন্তাভাবনা কোনকিছু খুজা বা পাওয়ার লক্ষ্যেই করে থাকি।যারা একটু বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে জানেন তারা হয়ত ব্যাপারটা বুজতে পেরেছেন।

যেদিকেই যান না কেন আপনার সাথে অবশ্যই একটা চাওয়া-পাওয়ার সম্পর্ক থাকবেই।এমনকি,আপনি যদি মানবিক কারণে কাউকে সাহায্যও করতে যান তাহলেও সেটার সাথে আপনার চাওয়া পাওয়া যুক্ত আছে।এর কারণে আপনি মানসিকভাবে তৃপ্তি পাবেন।তাইতো?নাকি।আর সামর্থ্য থাকা সত্তেও যদি সাহায্য না করতেন তাহলে আপনি ভেতর থেকে শান্তি পেতেন না কিন্তু।মনের ভিতর একটা খটকা থেকে যেত,কেন যে সাহায্য করলাম না।ফলশ্রুতিতে আপনি শান্তি হতে বঞ্চিত হতেন।ব্যাপারটি একটু বিস্তারিতভাবে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করি-

আমরা স্কুল-কলেজের এত গাদা-গাদা বই/স্যারদের লেকচার,সামাজিক নীতি,পারিবারিক সংস্কৃতি কেন আয়ত্ত করার চেষ্টা করি?বইয়ের প্রতি বা স্যারদের প্রতি,পরিবারের বা সমাজের প্রতি ভালোবাসা আছে বলে কি করি?না,করিনা।বরং নিজের প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই করি।কারণ,আমি জানি নিজে যদি ভালো থাকতে চাই তাহলে আমাকে বই,স্যার,পরিবার,সমাজ ইত্যাদির মন-যুগিয়েই থাকতে হবে।নচেৎ আমি ভালো থাকতে পারব না।কারন,আমার ভালো থাকার উপাদান সেগুলোর ভিতরই অন্তর্নিহিত এবং সীমাবদ্ধ।আর সেইজন্যেই আমাদের এত খাটাখাটনি।যেমনঃA+ পাওয়া,ভালো চাকরি পাওয়া,পরিবার বা সমাজের জন্য কিছু করার মাঝে বস্তুত নিজের ভালো থাকাটাই জড়িত।তাহলে বুজা গেল,আমরা যাই করি না কেন অব্যশ্যই এর সাথে কোন কিছু পাওয়ার বা খুজার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।পিতার চাকরি করার বাহ্যিক লক্ষ্যটা টাকা রোজগার বা পরিবারের এর ভরণপোষণের সাথে সম্পর্কযুক্ত মনে হলেও তা মূলত ভুল।একটু গভীরভাবে চিন্তা না করলে সবাই এই ভুলের কারণটা বুজতে সক্ষম নাও হতে পারে।আমি বলি,পিতার চাকরি করার অভ্যন্তরীন কারন হলো “তার নিজের ভালো থাকা”।কেননা,সে যদি পরিবারের ভরনপোষণ এর ব্যাবস্থা করতে না পারে তাহলে সে যত টাকাওয়ালাই থাকুক না কেন সে নিজে ভাল থাকতে পারবে না।অতএব,অনূরূপভাবে সন্তানকে তার পিতা-মাতা ভালবাসে মানসিকভাবে নিজেরা ভালো থাকার জন্য।কারণ,সন্তান অসুখী থাকলে তারা মানসিক ভাবে মোটেও ভালো থাকতে পারবেন না।success targetস্কুল-কলেজ,উচ্চতর শিক্ষায় আমরা কেউ শিক্ষা অর্জন করি নিজে কিছু একটা করে জীবিকা-নির্বাহের রাস্তা খুজার জন্য,কেউ সফলতাকে খুজে তাকে পাওয়ার জন্য,কেউ নিজের ব্যাক্তিত্ব তৈরীর উপাদান খুজা ও সংগ্রহের জন্য আবার কেউবা মনের তৃপ্তি পাওয়ার জন্য ইত্যাদি।এখন একটু ভালো করে খেয়াল করুনতো শিক্ষা অর্জনের সাথেও কিন্তু শিক্ষিত হওয়ার কোন উদ্দেশ্য নাই।উদ্দেশ্য উপরোক্ত বিষয় পাওয়ার জন্য।আর এজন্যাই তারা শিক্ষা অর্জন করে।এভাবে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই আমি মনে করি উপরোক্ত বিশ্লেষণ প্রযোজ্য।

এবারতো ক্লিয়ার হওয়া গেল যে,আমরা যাই করতে চাই না কেন তার সাথে আমাদের নিজেদের জন্য কোন কিছু খুজা বা পাওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে।
এভার আমি আপনাদের পুরোপুরিভাবে সেই লক্ষ্যের প্রতিই কেবল দৃষ্টি রাখার কথা বলছি;যা আপনারা মূলত নিজের জন্যে করবেন।আর নিজের ভালো কে না বুজে?যদি আপনি তা বুজে থাকেন তাহলে এবার কাজে হাত দিন।জানি,ব্যাহিক দিক দিয়ে স্বয়ং আপনার কাছেই একটু বিরক্তিকর লাগবে।আর অন্যদের কথা তো বাদই দিলাম।অনেকেই শুরু দিকে অনেক কথাই বলবে।শুধু মনে রাখবেন,সোনার খোজ কিন্তু সবাই করতে পারে না।তাহলে যারা সোনা খুজে তাদের কথা একটু না বললেই নয়-
“যারা সোনার সন্ধান করে তারা টনের পর টন মাটি কেটে এবং সরিয়ে সোনা খোজেন।আবার তার সন্ধান কখন পাবেন তাও অনিশ্চিত।এরপরেও তারা কিন্তু মোটেও হাল ছেড়ে দেন না এবং উদ্যমও কমে যায় না।কারণ,তারা জানে এখানে সোনা রয়েছে এবং তা হাতে পাওয়াও চাট্টিখানি কথা নয়।অতএব,ধৈর্য্যের সাথে পরিশ্রম করো।তাদের লক্ষ্য কিন্তু সোনার উপরই থাকে মাটির উপর নয়।সেজন্য একথা বলতে চাই-
আপনার লক্ষ্য যেটার উপর সেটার খোজ করুন এবং সেটাকে সামনে রেখেই কাজ করুন,মাটির মতো জঞ্জাল অনেক আসবে।একদিক থেকে ধৈর্য্যের সাথে পরিষ্কার করতে থাকুন,মনে রাখবেন আপনি কিন্তু সোনার মতো মূল্যবান ধাতুর খোজ করছেন।আপনাকে তা পেতেই হবে।তাই দৃষ্টিটা সবসময় সোনার উপরে থাকা চাই মাটির মত জঞ্জালের উপর মোটেও না।

অনূরূপভাবে,আপনার উদ্দেশ্য যদি হয় পড়ালেখার মাধ্যমে জীবিকা-নির্বাহের জন্য প্রস্তুত হওয়া তবে জীবিকার জন্য প্রস্তুত হওয়া যায় এমন বিষয়েই শিক্ষা নিন।অযথা অন্য বিষয়ের উপর মাথাঘামিয়ে নিজের উদ্দেশ্যের মাঝে চির ধরাতে যাবেন না।তাহলে ধরা আপনাকেই খেতে হবে।কিন্তু অত্যন্ত দুরভাগ্যের বিষয় হলেও সত্য যে আমরা আজকে পরিবার-সমাজ-প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির চাপে আমাদের লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় এমন অনেক বিষয় আমরা পড়তে বাধ্য হচ্ছি!!বড়ই অবাক হয়ে যাই এসব দেখলে!!আবার ব্যাক্তিত্ব গঠন বা সামাজিক প্রতিষ্ঠা পাওয়া উদ্দেশ্য হয়ে থাকলে তাহলে সেসবের সাথে সম্পর্কিত বিষয়ই অধ্যয়ন করুন।মনের তৃপ্তি পেতে চাইলে সাহিত্য পড়ুন।সারকথা হলো আপনি যা পেতে চান তাই নিয়েই পরে থাকুন আর সফলতা পাওয়ার জন্য লাগাতার লেগে থাকুন।

সুতরাং আপনার লক্ষ্য যেন A+ পাওয়া,ক্লাসে ভালো ছাত্র হওয়া ইত্যাদির উপর না থাকে।লক্ষ্যটা থাকা চাই যা হতে চান সেটার উপর।তবে মাধ্যমকেও যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।চোখ-কান খোলা রেখে নিজের অবস্থানের প্রতি লক্ষ্য রেখে কাজে হাত দিন যে আপনি এখন কোথায় আছেন আর আপনাকে কোথায় পৌছাতে হবে।আবার পথিমধ্যে যেন অন্য কিছুতে আপনার মন না ভরে যায় তাহলে সব কিছু বেকার হয়ে যাবে এবং আসল টার্গেট থেকে ছিটকে পরার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।

তবে আমি সবসময় একটা কথা বলি যে,নিজের আখিরাত নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারবেন না।আল্লাহ হাফেজ-

The following two tabs change content below.
সবার তৈরী ভালো কিছুকে একসাথে একত্র করার সামান্য চেস্টা করি।নিজের সম্পর্কে নিজে তেমন কিছু বলার খুজে পাই না।ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজে মানবিক শাখায় পড়ছি।থাকি ঘাটাইলেই,টাংগাইল।পরিবার খুব সাধারন।তাই স্বভাবতই আমিও তাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *