ইতিবাচক মনোভাব এর বিকল্প নেই

আপনি সামাজিক জীবনের যে অবস্থানেই বাস করুন না কেন আপনাকে নিজের সর্বোচ্চ প্রকাশ ও বিকাশের জন্য অব্যশ্যই ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী হতে হবে।প্রথমে,জেনে নেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে আমরা ঠিক কী বুঝি?একটি গল্পের মাধ্যমে বলি-

   এক গ্রামে এক বিশাল আকৃতির দৈত্য এসে বাচ্চাদের ভয় দেখাত।                                      সেখানে ১ ৭ বছরের একটি ছেলে গ্রামবাসীকে বললো তোমরা                                             দৈত্যটির সঙ্গে লড়াই করো না  কেন?তারা বললো,আঘাত করব                                         কেমনে?কি বিশাল দেহ!কিন্তু বালকটি  বললো,বিশাল দেহ দেখেই                                       আঘাত করা সহজ হবে,একটি তীরও ফস্কে যাবে না। অবশেষে,                                         বালকটি কিন্তু ঠিকই তার প্লান মতো দৈত্যটিকে হত্যা করতে সক্ষম                                    হয়েছিল।
এই গল্প থেকেই আমরা ইতিবাচক আর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট সজ্ঞা পাই।একই দৈত্য সম্পর্কে দুরকমের দৃষ্টিভঙ্গি।সাহসীর একরকম আর ভীতুদের অন্যরকম। অতঃপর ফলাফলে ব্যাপক ব্যাবধান
এখানে,এই বালকটির মতো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাই আমি বলছি।তাহলে একটু বিস্তারিতভাবেই বলা যাক

বেলুন এর রং লাল,নীল,কমলা,কালো যাই হোক না কেন তাকে কিন্তু ভিতরের গ্যাসই আকাশে উড়ায়।

মানুষ এর জীবনও অনূরূপ।আমাদের ভিতরে কী আছে সেটাই প্রধান।আমদের ভিতরের যে জিনিসটি আমাদের উপরে উঠতে সাহায্য করে তাহলো আমদের মনোভাব,যেটা সবসময়ই নেতিবাচকতাকে এড়িয়ে ইতিবাচক হবে।natural picture
কেন কোন কোন ব্যাক্তি,সংস্থা বা দেশ অন্যদের তুলনায় বেশি সফল?এর মধ্যে কোন জটিল রহস্যা নেই।তারা একটি নির্দিষ্ট ও কাঙ্খিত লক্ষ্যকে সামনে রেখে চিন্তা ও কাজ করেন।তাদের সাফ্যল্য এর পিছনে কর্মদক্ষতাই মুখ্য বিষয় নয়।বরং তাদের কর্মী,নাগরিক সবাই ইতিবাচক চিন্তাধারার লোক,যে গুনটা তদেরকে দক্ষ করে তুলে।মানে টা হচ্ছে,তারা সবাই সবার কাজের ব্যাপারে সাহায্যকারী,কেউ ভালো করতে না পারলে তারা তাকে উতসাহী করে তুলে,প্রেরণা যুগায়;যেটা সাধারনত আমাদের মাজে পাওয়া মুশকিল।আমরা কী করি?কেউ খারাপ করলেই তার সাপেক্ষে নিজের কেরামতি জাহির করি আর তাকে যত নিচে নামানো যায়। এতে করে কী লাভ হয়?কেন এমন করি।আরে আমরা তো সবাই ভাইভাই। আর তারা ইতিবাচক হওয়ার কারনে সম্মিলিত ভাবে কাজ করে,যদিও এতে নিজের স্বার্থ একটু ক্ষয় যায়।কারণ,তারা জানে সামগ্রিক সফলতাই প্রকৃত।বিশেষ করে,আমাদের স্কুল-কলেজ এর স্যারদের জন্য এই ইতিবাচকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ,যাতে তারা বোকার মতো নিজের স্বার্থ অপেক্ষা সমগ্রিক স্বার্থকে ছোট না করে।শুধু তাই নয়,সফল প্রতিষ্ঠান এর কর্মকর্তারা সবার প্রথম যে বিষয়টি তাদের কর্মীদের মধ্যে চায় তা হলো-কর্মীদের মনোভাব যেন উন্নততর হয়,যাতে তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়াস পায়।এতে করে অপচয় যেমন কমবে তেমনি কর্মততপরতাও বৃদ্ধি পাবে।হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম জেমস বলেন-
“আমাদের প্রজম্মের সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কার হলো এই যে,মানুষ মনোভাবের                          পরিবর্তন  ঘটিয়ে তার জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটাতে পারে”
এতক্ষন পড়ার পর,নিশ্চয়ই বুজতে পারছেন,কেন?
অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা জানি, মানব সম্পদই সমস্ত প্রকার উদ্যগে সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ।মূলধন বা যন্ত্রপাতি থেকেও মূল্যবান।দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা প্রতিনিয়ত এই সম্পদের অপচয় করে যাছি,কেবল মাত্র একে অপরের প্রতি ইতিবাচক না হওয়ার কারণে।যে করণে আমাদের মানব সম্পদ মহত্তম সম্পদের পরিবর্তে বৃহত্তম দায় হয়ে উঠেছে।কারণ,আমরা একে অপরের প্রতি তীব্র হিংসা পোষণ করি।কারো সফলতাকে আমরা সহ্যই করতে পারি না।এজন্য আমাদের ইতিবাচক হয়ে সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে।তাহলেই,আমরা আমাদের মানব সম্পদকে আমাদের মহত্তম সম্পদ বানাতে পারব ইনশাল্লাহ।
আর মেধা এবং ভালো মানুষ হওয়ার সাথেও কিন্তু এই ইতিবাচকতার সম্পর্ক রয়েছে-
কারন,একে অপরের প্রতি ইতিবাচক হলে আমরা খুব সহজেই স্ব স্ব মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারব।এইজন্য পারব যে,তখন আর সমালোচনা করে পিছনে ঠেলে দিবার মতো,হিংসা করার মতো কেউ থাকবে না।যার কারণে আমরা এমনিতেই ভলো মানুষ হতে পারব।

তাহলে বুজা গেল,আমাদের বর্তমান অবস্থা সাপেক্ষে আমাদের আগে ইতিবাচক হতে হবে।ফলে,আমাদের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ,সমালোচনাকারী থাকবে না,যার কারণে আমরা স্ব স্ব মেধা প্রকাশ করে সবাই মেধাবী হয়ে উঠব ইনশাল্লাহ।তোমার পড়া-লেখার মেধা নেই!কোন ব্যাপার না,তুমি নিজের ভিতর তালাশ করে দেখ যে তোমার ভিতর কী মেধা আছে?আর সেটাকেই কাজে লাগাও।তবে,কোরআন-হাদীস বিরোধী কোন মেধাকে কাজে লাগিও না।নাহলে কিন্তু এর দায় তোমাকেই নিতে হবে।যেমনঃগান-বাজনা,নাচ,সুদ সম্পর্কিত ব্যাবসা,কোরআনকে বিক্রি করা,পাপাচারের কাজ ইত্যাদি।
এখন ভাবেনতো,আমরা সবাই যদি ইতিবাচকতার গুনে গুনান্বিত হয়ে মেধাবী হয়ে যাই,তাহলে আমাদের জাতি(বাংলাদেশ) এর উন্নত হতে সময় লাগবে?না,চোখের পলকেই আমরা আমাদের কাঙ্খিত উন্নত লক্ষ্যে পৌছে যাব ইনশাল্লাহ।
আরে,দেশটা তো আমাদের।ইতিবাচক আমাদের হতেই হবে।আজকেই বিদায় দিন সমস্ত নেতিবাচকতাকে।আল্লাহ হাফেজ-

The following two tabs change content below.
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করার চেস্টা করি। সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের ।ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজে মানবিক শাখায় পড়ছি।থাকি ঘাটাইলেই,টাংগাইল।পরিবার খুব সাধারন।তাই স্বভাবতই আমিও তাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *