আমাদের দুর্বল শিক্ষা ব্যাবস্থার ফলাফল!

মূললেখকঃসৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী

নেতৃত্ব ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ব্যর্থতা
আমরা আগেই আলোচনা করে এসেছি, এ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বৃটিশদের মানসিক দাস আর অনুগত সেবক তৈরি করার জন্য। এ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে স্বাধীন দেশ ও জাতিকে পরিচালনা করার যোগ্য নেতৃত্ব ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবার আশা করা যায়না। নিজ দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্যে আত্মত্যাগী শিক্ষিত মানুষ এখান থেকে বের হবার আশা করা যায়না। তাইতো দেখা যায়, জাতির মেধাবী লোকেরা স্বদেশ থেকে বিদেশেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টিতে ব্যর্থতা
এ শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এ শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে মানসিকভাবে বহুমত ও পথের অধিকারী বানিয়ে দেয়। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা মানসিকভাবে পরস্পরভাবে পরস্পরের শত্রু হয় গড়ে উঠে। ছাত্র জীবন শেষে তারা বিভিন্ন মত ও পথে পরিচালিত হয় এবং জাতিকেও বিভিন্ন পথ ও মতের দিকে ধাবিত মত ও পথে পরিচালিত হয় এবং জাতিকেও বিভিন্ন পথ ও মতের দিকে ধাবিত করবার চেষ্টা করে। ফলে জাতির মধ্যে দিন দিন হানাহানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনৈক্য প্রসারিত হচ্ছে। ঐক্য ও সংহতির বন্ধন একেবারে শিথিল হয়ে পড়েছে। জাতি অসংখ্য মত ও পথের অনুসারী হয়ে পড়েছে।

সন্ত্রাস
শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক দেউলিয়াত্বের কারণে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে সন্ত্রাসের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। সন্ত্রাস আজ আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার অপরিহার্য অংগে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এখানকার শিক্ষকরা সন্ত্রাসের দ্বারা আক্রন্ত হচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে দেখা দেয় সেশনজট। তাতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই।

স্বার্থান্বেষী চিন্তা-ভাবনা
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা স্বার্থপর, স্বার্থন্বেষী নিরেট বস্তুবাদী দৃষ্টিভংগির লোক তৈরি করছে। আমরা প্রত্যেকেই কেবল নিজের জন্য আগে চিন্তা করে অতঃপর অন্যদের জন্য বা দেশের জন্য চিন্তা করি। কারন শিক্ষা ব্যবস্থার মূলে রয়েছে বৃটিশদের দেয়া কিছু অনৈতিক চিন্তা ধারা ও অমানসিক জীবন ব্যবস্থার মাপকাঠি। কারণ এ মুখস্তনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কেবল একজন কেরানী হওয়ার উপযুক্ত করে তৈরী করে তোলে।
দুর্নীতির প্রসার
দুর্নীতি আমাদের জাতি সত্তার অংশে পরিণত হয়েছে। এই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছে জঘণ্য ঘুষখোর, চোরাকারবারী, মানুষের অধিকার হরণকারী, আইনকানুন ও নিয়মশৃংখলা লংঘনকারী, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, স্বজনপ্রীতিকারী, যুলুমবাজ, মদখোর, মদখোরা, জুয়াবাজ, ফাঁকিবাজ, প্রতারক, চোর, ডাকাত ইত্যাদি। শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্যে, আদর্শ মানুষ তৈরির মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। আর আমাদের ভাগ্যে জুটেছে এর বিপরীত ফল। আমরা এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রেখেছি, যা দুর্নীতি শিক্ষা দিচ্ছে এবং এর শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির কাজে দক্ষ হয়ে বেরুচ্ছে।

 

The following two tabs change content below.
সবার তৈরী ভালো কিছুকে একসাথে একত্র করার সামান্য চেস্টা করি।নিজের সম্পর্কে নিজে তেমন কিছু বলার খুজে পাই না।ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজে মানবিক শাখায় পড়ছি।থাকি ঘাটাইলেই,টাংগাইল।পরিবার খুব সাধারন।তাই স্বভাবতই আমিও তাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *