online income in bangladesh,freelancing in bangladesh

শিক্ষক-অবিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির বিবিধ-অবস্থা

সংগ্রহেঃসৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী 

সৃজনশীল শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা নিতে সাহায্য না করাঃ

আমাদের দেশে সম্প্রতি শিক্ষা ব্যাবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, আসছেও। শিক্ষার সর্বস্তরে শিক্ষকের ভূমিকাই সব থেকে বেশি। মাধ্যমিক স্তরে বর্তমানে যে সৃজনশীল ব্যাবস্থা চালু হয়েছে তা নির্দ্বিধায় প্রশংসণীয়। কিন্তু যারা এই শিক্ষা প্রদান করবেন তাদের সমস্যাগুলো ভেবে দেখা দরকার। প্রথমত, তারা যে পরিমান বেতন-ভাতা পান তা দিয়ে কি দূর্মূল্যের এই সময়ে সংসার চালানো সম্ভব?না  বড়ই কষ্টসাধ্য।যে কারণে,তাদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়।অনেকে উপায়ন্তর না দেখে অনৈতিক উপায়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করে।আবার,সংসারের বাড়তি চাপ।তবে এর মাঝেও কিছু অসাধু শিক্ষক আছে,যারা লোভের বশবর্তী হয়ে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে প্রাইভেট পড়ার জন্য চাপ দেয়।শিক্ষার মান উন্নয়নে এদেরও চিহ্নিত করে ব্যাবস্থা নিতে হবে।যাইহোক-

আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে আর যাই হোক সুষ্ঠভাবে সিক্ষা প্রদান করা সম্ভব নয়, যদিও আমাদের মহান শিক্ষকগণ সেই অসম্ভবকেও জয় করেছেন, তবুও শিক্ষকদের মধ্যে বিবদমান বেতন বৈষম্য দূর করা উচিত। দ্বিতীয়ত, তাদের সৃজনশীল শিক্ষার উপর পর্যাপ্ত training এর অভাব। আশার কথা এই যে সরকার বর্তমানে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে training চালু করেছে। তৃতীয়ত, যেহেতু শিক্ষকই হচ্ছেন শিক্ষার মূল চালিকা শক্তি, তাই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে হবে, নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে আর মেধাবীদের এই মহান পেশায় আকৃষ্ট করতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যাবস্থা করতে হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের অসচেতনতাঃ
শিক্ষার বিস্তার ও উন্নয়নে অভিভাবক সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার শুরু থেকেই গুরুত্ব বহন করে আসছে । এ সম্পৃক্ততা মূলত দু’ভাবে হয়ে থাকে আইনানুগভাবে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নে সামাজিক দায়িত্ব হিসাবে অংশগ্রহণ। গবেষণায় দেখা গেছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিম্নলিখিতভাবে সম্পৃক্ত করে শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে সুফল পাওয়া যায়।
যথা:
১) শিক্ষক অভিভাবককে সন্তান সম্পর্কে জানতে, সন্তানের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন বুঝতে এবং বিভিন্ন বয়সের সম্ভাব্য আচরণ ও শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে সহায়তা করে।
২) বিদ্যালয় ও বাড়িতে সন্তানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে শিক্ষক-অভিভাবক পরস্পরকে অবহিত করার মাধ্যমে।
৩) বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে অভিভাবক কিভাবে সন্তানকে শেখার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে সে সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিয়ে ।
৪) শিক্ষার্থীর নিকটবর্তী ও দূরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে
৫) বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সম্পদ আহরণে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রদান করে । তাছাড়া-

শিক্ষকদের ওপর ম্যানেজিং কমিটির প্রভাব শিক্ষা কার্যক্রমেরএকটি অন্তরায়। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অনেক সদস্য  অযোগ্য অনেক ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য চাপ দেয় অথবা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। ফলে কোথাও কোথাও শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্বের সূচনা হয়। এ সকল দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষা ব্যাহত হয় বলে তিনি জানান। 

বলাবাহূল্য,  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপকরণের অভাব, শিক্ষক স্বল্পতা, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা এবং কিছু শিক্ষকের দক্ষতার অভাব থাকায় শিক্ষার মান কমছে। প্রাথমিক স্তরে গ্রাম ও শহর এবং সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যাসমূহ সমাধান করলে গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার মান আরো উত্তোরত্তর সমৃদ্ধি পাবে।

The following two tabs change content below.
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করার চেস্টা করি। সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের ।ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজে মানবিক শাখায় পড়ছি।থাকি ঘাটাইলেই,টাংগাইল।পরিবার খুব সাধারন।তাই স্বভাবতই আমিও তাই।

Leave Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *